Main Menu

স্যোশাল মিডিয়ার ব্যাপক ব্যবহার করতে চায় সরকার

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের উন্নয়নমূলক প্রচারণা এবং অপপ্রচারসহ গুজব রুখতে স্যোশাল মিডিয়ার ব্যাপক ব্যবহার করতে চায় সরকার। সরকারের দশ বছরের সাফল্য গাঁথা প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে সরকারবিরোধী অপপ্রচার ঠেকাতে বেতার, টেলিভিশনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব ব্যবহারের ওপর সংশ্লিষ্টদের জোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং দফতরের তথ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এসব নির্দেশনা পেয়েছেন তারা। সভায় অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। বর্তমানে ভার্চুয়াল জগতে ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়ে চলেছে। আর ইন্টারনেটের মাধ্যমে তরুণ সমাজসহ অধিকাংশই মুহূর্তের মধ্যে তথ্য পেয়ে যাচ্ছেন এবং প্রভাবিতও হচ্ছেন। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সরকারের বিরুদ্ধে তৈরি করা গুজবেও অনেকে প্রভাবিত হচ্ছেন। তার প্রমাণ মেলে সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলনে ধানমন্ডিকেন্দ্রিক গুজব রটানো।

সরকার সেই গুজব মিথ্যা প্রমাণ করে দিতে সক্ষম হলেও আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারবিরোধী অপতৎপরতার আশঙ্কা রয়ে গেছে। আর এসব ক্ষেত্রে ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে থাকেন অপপ্রচারকারীরা।এসব অপতৎপরতা ঠেকানোর পাশাপাশি সরকারের দশ বছরের সাফল্য প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দফতর, বিভাগের তথ্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের নিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর বৈঠক করে বেশ কয়েক দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক জনসংযোগ কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তাদের কাছে ১০ বছরের সাফল্যের কৌশল জানতে চাওয়া হয়। বিস্তারিত আলোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আমাদেরকে বেশ কয়েক দফা নির্দেশনা দেন। এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, সরকারের ১০ বছরের সাফল্য নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে হবে। উন্নয়নমূলক কাজের প্রচারের জন্য সংবাদকর্মীদের নিয়ে প্রত্যেকটি প্রকল্প ভিজিট, স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ের বিটের সাংবাদিকদের মন্ত্রণালয়ের আপডেট জানাতে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করতে হবে। আর আসন্ন ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এশিয়া কাপ ক্রিকেট চলাকালে মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন নিয়ে প্রচারণা চালাতে হবে। প্রচারণা চালাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান এক কর্মকর্তা।

তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক নিয়মিত আপডেট করার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে ফেসবুকে বুস্টিং করতে বলা হয়। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ১০ বছরের সাফল্য আপলোড করতে হবে বলেও জানানো হয়। এছাড়াও বাংলাদেশ বেতারসহ সব বেতারে প্রচারের জন্য অডিও ক্লিপ, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সব টেলিভিশনে প্রচারের জন্য ভিডিও ক্লিপ তৈরি করতে বলা হয়েছে তথ্য কর্মকর্তাদের। আর ইউটিউবে প্রচারের জন্য ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ তৈরি করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সরকারের কর্মকাণ্ডগুলো বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের স্ক্রলে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে বলে কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।অপপ্রচার এবং গুজব সৃষ্টি করা হলে স্যোশাল মিডিয়ার ব্যবহারকে প্রাধান্য দেওয়া হয় ওই সভায়। এক তথ্য কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কোনো অপপ্রচার হলে বা কোনো গুজব সৃষ্টি করা হলে তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ফেসবুকে জবাব দিতে হবে। সঠিক তথ্য তুলে ধরার জন্য প্রেস ব্রিফ, ফেসবুক, ইউটিউবসহ সব সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করতে নির্দেশনা দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।