Main Menu

দুপুরে আতঙ্ক হলেও সন্ধ্যায় স্বস্তি

বরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেনের শারীরিক অবস্থা গতকাল সোমবার দুপুর হঠাৎ অবনতি হয়। চিকিৎসকেরা তাঁর দুই ছেলেকে ফোন করে বললেন, রক্তচাপ অনেক কমে গেছে। তাঁরা রক্তচাপ স্বাভাবিক করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। আর এই সময়টা যেন ছেলেরা হাসপাতালেই থাকেন। যেকোনো মুহূর্তে তাঁদের ডাকা হতে পারে। পরে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসকেরা আবার ফোন করে জানান, আমজাদ হোসেনের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশের বরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনয়শিল্পী, গীতিকার ও লেখক আমজাদ হোসেন এখন ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। গত ২৭ নভেম্বর মধ্যরাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে ব্যাংককে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি প্রখ্যাত নিউরোসার্জন টিরা ট্যাংভিরিয়াপাইবুনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। আমজাদ হোসেনের সঙ্গে হাসপাতালে আছেন তাঁর দুই ছেলে সাজ্জাদ হোসেন দোদুল ও সোহেল আরমান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বাবার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে সোহেল আরমান লিখেছেন, ‘গতকাল দুপুরে আমরা যখন খাবার খাওয়ার জন্য বের হচ্ছি, তখনই হাসপাতাল থেকে ফোন করে আমাদের জানানো হয়, বাবার রক্তচাপ হঠাৎ করেই নিচের দিকে নেমে গেছে। তাঁরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমরা যেন হাসপাতালেই থাকি। যেকোনো সময় তাঁরা ডাকবেন।’

সোহেল আরমান আরও লিখেছেন, ‘সন্ধ্যায় আবার খবর এল, বাবার রক্তচাপ চিকিৎসকেরা নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছেন।’

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় গত ১৮ নভেম্বর রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আমজাদ হোসেনকে। হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শুরু থেকেই তাঁকে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাসপ্রশ্বাস দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়। বাংলাদেশের বরেণ্য এই নির্মাতার শারীরিক অসুস্থতার খবর শুনে হাসপাতালে ভর্তির তিন দিনের মাথায় তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর আমজাদ হোসেনের উন্নত চিকিৎসার খরচ বাবদ ২০ লাখ টাকা এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া বাবদ ২২ লাখ টাকাসহ মোট ৪২ লাখ টাকার চেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে গ্রহণ করেন সোহেল আরমান।

এদিকে ব্যাংককে নেওয়ার পর থেকেই সোহেল আরমান আর তাঁর বড় ভাই নির্মাতা সাজ্জাদ হোসেন দোদুল সেখানে বাবার চিকিৎসাসেবা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।